একাদশ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় সেমিস্টার ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর

0
89

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকের এই আর্টিকেলে আমাদের আলোচ্য বিষয় __________একাদশ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় সেমিস্টার ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর

ভূমিকা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ‘ছুটি’ বাংলা সাহিত্যের একটি হৃদয়স্পর্শী ছোটোগল্প। একাদশ শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমে এই গল্পটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ছুটি (গল্প) একাদশ শ্রেণীর বাংলা বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর | Class 11 Bengali Chuti Question and Answer বিষয়টি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক। ছুটি গল্পের বড়ো প্রশ্ন উত্তর Class 11 । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। একাদশ শ্রেণী দ্বিতীয় সেমিস্টার। Class 11 Chhuti Golpo Long Question Answer অনুসারে গল্পটির গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর অনুশীলন করলে বিষয়বস্তু ভালোভাবে বোঝা যায়। পাশাপাশি ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | Chuti Question Answer | Class 11 | Semester 2 | WBCHSE এবং ছুটি গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর || একাদশ শ্রেণি বাংলা 2nd Semester শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় পূর্ণাঙ্গ উত্তর লেখার প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ গল্পের প্রশ্ন উত্তর একাদশ শ্রেণী দ্বিতীয় সেমিস্টার অনুসরণ করে ফটিকের চরিত্র, তার মানসিক অবস্থা, পারিবারিক পরিবেশ এবং গল্পের মূল বক্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করা সম্ভব।

একাদশ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় সেমিস্টার ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর

(১) ‘মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি ।’- (ক) বক্তা কে ? (খ) কোন প্রসঙ্গে তিনি এই মন্তব্য করেন ? (গ) উক্তিটির তাৎপর্য লেখো । ১+১+৩

উত্তর –
(ক) বক্তা কে? (১ নম্বর)
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ছুটি’ গল্প থেকে গৃহীত আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন ফটিক চক্রবর্তী।


(খ) কোন প্রসঙ্গে তিনি এই মন্তব্য করেন? (১ নম্বর)
– ফটিক জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় শুয়ে ছিল। ডাক্তার তার অবস্থা খারাপ বলে জানান। এমন সময় তার মা তাকে দেখতে আসেন। মা তাকে জড়িয়ে ধরে ডাকলে ফটিক জ্বরের ঘোরে এই কথাগুলি বলে। এই প্রসঙ্গেই সে মন্তব্যটি করেছিল।

(গ) উক্তিটির তাৎপর্য লেখো। (৩ নম্বর)

  • মামার বাড়িতে ফটিক অবহেলা ও স্নেহের অভাবের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। একদিন অসুস্থ অবস্থায় সে বাড়ি ফিরে আসে।
  • তার সারা শরীর ভেজা ছিল, গায়ে কাদা লেগেছিল এবং প্রচণ্ড জ্বরে সে কাঁপছিল। ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
  • জ্বরের ঘোরে ফটিক বারবার মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। মাকে কাছে পেয়ে সে বলে, তার ছুটি হয়েছে এবং সে বাড়ি যাচ্ছে।
  • এখানে ‘ছুটি’ শব্দটি গভীর তাৎপর্য বহন করে। এর অর্থ শুধু স্কুলের ছুটি নয়, বরং স্নেহহীন ও কষ্টের জীবন থেকে চিরমুক্তি।
  • লেখক ‘ছুটি’ শব্দের মাধ্যমে ফটিকের মৃত্যুর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার বাড়ি যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আসলে চিরশান্তির জগতে চলে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। এভাবেই উক্তিটির মধ্য দিয়ে ফটিকের অসহায়তা ও মায়ের প্রতি গভীর টান প্রকাশ পেয়েছে।

(২) ‘বিশেষত, তেরো-চৌদ্দ বৎসরের ছেলের মতো পৃথিবীতে এমন বালাই আর নাই।’ – (ক) কার কথা বলা হয়েছে ? (খ) ‘তেরো-চৌদ্দ বৎসরের’ ছেলেটি কে ? (গ) এমন মন্তব্যের কারণ কী ? ১+১+৩

উত্তর –
(ক) কার কথা বলা হয়েছে? (১ নম্বর)
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ছুটি’ গল্পের আলোচ্য উদ্ধৃতাংশে তেরো-চৌদ্দ বছরের ছেলেদের কথা বলা হয়েছে।


(খ) ‘তেরো-চৌদ্দ বৎসরের’ ছেলেটি কে? (১ নম্বর)
– ‘তেরো-চৌদ্দ বৎসরের’ ছেলেটি বলতে ফটিক চক্রবর্তীকে বোঝানো হয়েছে।


(গ) এমন মন্তব্যের কারণ কী? (৩ নম্বর)

  • তেরো-চৌদ্দ বছর বয়স হলো শৈশব ও যৌবনের মধ্যবর্তী একটি পরিবর্তনের সময়। এই বয়সে ছেলেদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে।
  • এই বয়সে ছেলেরা না থাকে ছোটো শিশু, না হয় পরিণত যুবক। তাই তাদের আচরণ অনেক সময় বড়োদের কাছে অদ্ভুত বলে মনে হয়।
  • তাদের মুখের আধো আধো কথা বড়োদের কাছে ন্যাকামি বলে মনে হয়। আবার বড়োদের মতো কথা বললে তা জ্যাঠামি বলে মনে হয়।
  • এই বয়সের ছেলেদের কণ্ঠে শিশুর মতো মিষ্টতা থাকে না। তাদের ছোটোখাটো ভুলকেও অনেক সময় বড়ো অপরাধ হিসেবে দেখা হয়।
  • শৈশবের সরলতা ও যৌবনের পরিণত বুদ্ধি—কোনোটিই এই বয়সে পুরোপুরি গড়ে ওঠে না। তাই লেখক তেরো-চৌদ্দ বছরের ছেলেদের নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন।

(৩) ‘এইরূপ প্রত্যাশা করতে তাহার লজ্জাবোধ হইতে লাগিল’। – (ক) কার কথা বলা হয়েছে ? (খ) এইরূপ প্রত্যাশা বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? (গ) উদ্দিষ্ট ব্যক্তির এমন মনে হবার কারণ কী ? ১+১+৩

উত্তর –
(ক) কার কথা বলা হয়েছে? (১ নম্বর)
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ছুটি’ গল্পের আলোচ্য উদ্ধৃতাংশে ফটিক চক্রবর্তীর কথা বলা হয়েছে।


(খ) এইরূপ প্রত্যাশা বলতে কী বোঝানো হয়েছে? (১ নম্বর)
– স্কুল থেকে ফিরে ফটিকের মাথাব্যথা ও গা শিরশির করতে থাকে। সে বুঝতে পারে, তার জ্বর আসছে। এই অবস্থায় সে মামির কাছে সেবা-যত্ন ও সহানুভূতি আশা করেছিল। কিন্তু স্নেহহীন মামির কাছে এমন প্রত্যাশা করতেও তার লজ্জা হচ্ছিল।


(গ) উদ্দিষ্ট ব্যক্তির এমন মনে হবার কারণ কী? (৩ নম্বর)

  • ফটিক মামাবাড়িতে এসে স্নেহ-ভালোবাসার পরিবর্তে অবহেলা ও অপমান পেয়েছিল।
  • মামি তাকে নিজের পরিবারের একজন সদস্য বলে মনে করতেন না। তাঁর কাছে ফটিক ছিল একটি বাড়তি বোঝা।
  • ফটিকের কোনো কাজই মামির মন জয় করতে পারেনি। সুস্থ অবস্থাতেও মামি তাকে সহ্য করতে পারতেন না।
  • তাই অসুস্থ অবস্থায় মামির কাছে সেবা-যত্ন আশা করাকে ফটিক বৃথা মনে করেছিল।
  • এই অবহেলা ও ভালোবাসার অভাব থেকেই ফটিকের মনে হয়েছিল, মামির কাছে এমন প্রত্যাশা করা উচিত নয়।

(৪) ‘ছুটি’ গল্পে মামা বাড়িতে গিয়ে ফটিকের যে দুরবস্থা হয়েছিল তা নিজের ভাষায় লেখো । ৫

উত্তর –

  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ছুটি’ গল্পে ফটিক মামার সঙ্গে কলকাতায় এসে মামাবাড়িতে ওঠে। কিন্তু সেখানে এসে সে স্নেহ-ভালোবাসার পরিবর্তে অবহেলা ও কষ্ট পায়।
  • ফটিকের মামি তিন সন্তানের মা ছিলেন। তাই তিনি ফটিকের আগমনকে ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারেননি। তাঁর কাছে ফটিক ছিল বাড়তি বোঝা।
  • ফটিক তেরো-চৌদ্দ বছরের কিশোর হওয়ায় তার স্বাভাবিক আচরণ ও ছোটোখাটো ভুলত্রুটিও মামির বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছিল।
  • ফটিক মামির মন জয় করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। মামির ব্যঙ্গ ও অবহেলায় সে মানসিকভাবে কষ্ট পেত। মামাতো ভাইদের কাছ থেকেও সে ভালো ব্যবহার পেত না।
  • স্কুলেও ফটিকের অবস্থা ভালো ছিল না। পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকার কারণে তাকে শিক্ষকদের বকুনি ও মার খেতে হতো। এতে তার দুঃখ আরও বেড়ে যায়।
  • নিজের বাড়ি ও মায়ের কথা মনে করে ফটিক সব সময় কষ্ট পেত। কিন্তু মামাবাড়িতে সে মনের কথা বলার মতো কাউকে পায়নি।
  • একদিন স্কুল থেকে ফিরে সে বুঝতে পারে, তার জ্বর আসছে। কিন্তু মামির কাছে সেবা-যত্ন আশা করতেও তার লজ্জা হয়।
  • শেষ পর্যন্ত ফটিক বাড়ি থেকে হারিয়ে যায়। পুলিশ তাকে খুঁজে এনে মামাবাড়িতে পৌঁছে দেয়। তখন সে প্রবল জ্বরে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
  • জ্বরের ঘোরে ফটিক বারবার মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানায়। তার মুখে শোনা যায়, “মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।”
  • এভাবেই মামাবাড়ির অবহেলা, স্কুলের কষ্ট এবং মায়ের স্নেহ থেকে বিচ্ছিন্নতা ফটিকের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। শেষ পর্যন্ত তার করুণ পরিণতির মধ্য দিয়ে গল্পের সমাপ্তি ঘটে।

(৫) ‘বিধবা এ প্রস্তাবে সহজেই সম্মত হলেন’ – ‘বিধবা’টি কে ? তাঁর কাছে কে, কী প্রস্তাব দেন ? তিনি এ প্রস্তাবে কেন সম্মত হলেন ? ২+৩=৫

উত্তর –
বিধবার পরিচয় (১ নম্বর):
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ছুটি’ গল্পে ‘বিধবা’ বলতে ফটিক চক্রবর্তীর মাকে বোঝানো হয়েছে।


প্রস্তাবের কথা (১ নম্বর):
– ফটিকের মামা বিশ্বম্ভরবাবু তাঁর দিদি অর্থাৎ ফটিকের মায়ের কাছে প্রস্তাব দেন যে, তিনি ফটিককে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে নিজের কাছে রেখে পড়াশোনা করাবেন।


প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার কারণ (৩ নম্বর):

  • ফটিকের মা ছিলেন বিধবা এবং দুই সন্তানের জননী। ফটিক ছিল অবাধ্য, চঞ্চল ও উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির। সে প্রায়ই মাকে জ্বালাতন করত।
  • ফটিকের মা সব সময় আশঙ্কা করতেন, সে হয়তো তার ছোটো ভাই মাখনের কোনো ক্ষতি করে বসবে। দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।
  • অন্যদিকে, মাখন ছিল ফটিকের বিপরীত স্বভাবের। তাই ফটিককে সামলানো তার মায়ের পক্ষে কঠিন হয়ে উঠেছিল।
  • বিশ্বম্ভরবাবু ফটিককে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে পড়াশোনা করানোর প্রস্তাব দিলে তাঁর মা মনে করেন, এতে ফটিকের ভবিষ্যৎ ভালো হতে পারে।
  • তাই নিজের সংসারের শান্তি এবং ফটিকের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি দাদার প্রস্তাবে সহজেই সম্মত হয়েছিলেন।

(৬) ‘দেয়ালের মধ্যে আটকা পড়িয়া কেবলই তাহার সেই গ্রামের কথা মনে পড়িত’ – (ক) ‘তাহার’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে ? (খ) উদ্দিষ্ট ব্যক্তির কোথায় এমন মনে হতো ? (গ) এমন মনে হওয়ার কারণ কী ? ১+১+৩

উত্তর –
(ক) ‘তাহার’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে? (১ নম্বর)
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ছুটি’ গল্পে ‘তাহার’ বলতে ফটিক চক্রবর্তীর কথা বলা হয়েছে।


(খ) উদ্দিষ্ট ব্যক্তির কোথায় এমন মনে হতো? (১ নম্বর)
– মামাবাড়িতে অনাদর ও অবহেলার মধ্যে দিন কাটানোর সময় ফটিকের এমন মনে হতো।


(গ) এমন মনে হওয়ার কারণ কী? (৩ নম্বর)

  • মামাবাড়িতে ফটিক নিজেকে অবাঞ্ছিত ও অবহেলিত বলে মনে করত। মামি তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন না।
  • ফটিক স্নেহ-ভালোবাসার কাঙাল ছিল। মামি কোনো কাজ করতে বললে সে আনন্দের সঙ্গে কাজটি করত এবং প্রয়োজনের চেয়েও বেশি কাজ করার চেষ্টা করত। কিন্তু মামি তার উৎসাহকে দমন করতেন।
  • মামাবাড়িতে সে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারত না। কলকাতার ঘরবন্দি জীবন তার কাছে অসহ্য হয়ে উঠেছিল।
  • গ্রামের খোলা পরিবেশ, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা এবং পরিচিত প্রকৃতির জন্য তার মন কাঁদত।
  • তাই মামাবাড়ির অবহেলা ও একঘেয়ে জীবনে অতিষ্ঠ হয়ে ফটিকের বারবার নিজের গ্রামের কথা মনে পড়ত।

(৭) ‘ছুটি’ গল্পে ফটিক চরিত্রটি যেভাবে ধরা পড়েছে, তা আলোচনা করো। ৫

উত্তর –

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ছুটি’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো ফটিক চক্রবর্তী। তার চরিত্রের বিভিন্ন দিক নিচে আলোচনা করা হলো।


সারল্য ও চঞ্চলতা :
– ফটিক গ্রামের এক সহজ-সরল ও চঞ্চল বালক। গ্রামের খোলা পরিবেশে সে স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠেছিল। তার আচরণে গ্রাম্য জীবনের স্বাভাবিকতা প্রকাশ পেয়েছে।


নেতৃত্বদানের ক্ষমতা :
– ফটিক ছিল গ্রামের ছেলেদের দলের নেতা। তার নির্দেশে অন্য ছেলেরা বিভিন্ন খেলায় অংশ নিত। এর মধ্য দিয়ে তার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে।


ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা :
– মাখনের সঙ্গে ফটিকের ঝগড়া হলেও সে তার ভাইকে ভালোবাসত। কলকাতায় যাওয়ার সময় সে নিজের খেলার সামগ্রী মাখনকে দিয়ে যায়। এতে তার উদার মনের পরিচয় পাওয়া যায়।

মায়ের প্রতি গভীর টান :
– মায়ের সঙ্গে ফটিকের অভিমান থাকলেও মায়ের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ছিল। মামাবাড়িতে অবহেলিত অবস্থায় সে বারবার মায়ের কথা মনে করত। মৃত্যুর আগে মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুলতা তার মাতৃস্নেহের প্রতি গভীর আকর্ষণ প্রকাশ করে।


আত্মসম্মানবোধ ও অভিমান :
– মামাবাড়িতে অবহেলা ও অপমান সহ্য করতে না পেরে ফটিক মনে করেছিল, সে অন্যের সংসারে বোঝা হয়ে রয়েছে। তাই তার মনে গভীর অভিমান জন্মেছিল।


উপসংহার :
– সর্বোপরি, ফটিক একটি সরল, চঞ্চল, আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন ও স্নেহকাতর কিশোর। কলকাতার পরিবেশে সে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেনি। স্নেহ-ভালোবাসার অভাব তার জীবনকে দুঃখময় করে তুলেছিল। তার করুণ পরিণতির মধ্য দিয়ে লেখক শিশুমনের আকাঙ্ক্ষা ও অবহেলার যন্ত্রণা তুলে ধরেছেন।

(৮) ‘ছুটি’ গল্পে ফটিকের মামা বিশ্বম্ভরবাবুর চরিত্রটি আলোচনা করো । ৫

উত্তর –
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ছুটি’ গল্পে বিশ্বম্ভরবাবু ফটিকের মামা এবং গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তাঁর চরিত্রের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—


কর্তব্যপরায়ণতা :
– বিশ্বম্ভরবাবু কাজের কারণে দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকতেন। তাই বোনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে পারেননি। তবে বাড়ি ফিরে তিনি বোনের সঙ্গে দেখা করতে আসেন এবং ভাগ্নে ফটিককে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বোনের প্রতি ভালোবাসা :
– বোনের কষ্টের কথা ভেবে বিশ্বম্ভরবাবু ফটিককে কলকাতায় নিয়ে যেতে চান। তিনি মনে করেছিলেন, এতে বোনের কিছুটা স্বস্তি হবে এবং ফটিকের পড়াশোনারও উন্নতি ঘটবে।
ভাগ্নের প্রতি স্নেহ :
– বিশ্বম্ভরবাবু ফটিককে নিজের কাছে রেখে পড়াশোনা করানোর ব্যবস্থা করেন। ফটিকের প্রতি তাঁর স্নেহ ও দায়িত্ববোধের পরিচয় এতে পাওয়া যায়।

সংসার সম্পর্কে অনভিজ্ঞতা :
– বিশ্বম্ভরবাবু সংসারের জটিলতা সম্পর্কে খুব বেশি অভিজ্ঞ ছিলেন না। তাই তাঁর সংসারে তেরো-চৌদ্দ বছরের একটি কিশোরকে নিয়ে আসার ফলে কী ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে, তা তিনি আগে থেকে বুঝতে পারেননি।
সহানুভূতিশীল মনোভাব :
– ফটিক অসুস্থ হয়ে পড়লে বিশ্বম্ভরবাবু তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং তার মাকে খবর পাঠান। এর মধ্য দিয়ে ভাগ্নের প্রতি তাঁর মমতা ও দায়িত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে।
উপসংহার :
– সর্বোপরি, বিশ্বম্ভরবাবু একজন স্নেহশীল, দায়িত্ববান ও সহানুভূতিশীল মানুষ। তবে সংসার সম্পর্কে তাঁর অনভিজ্ঞতার কারণে তিনি ফটিকের মানসিক কষ্ট যথাযথভাবে বুঝতে পারেননি। তাঁর চরিত্রের মধ্য দিয়ে লেখক স্নেহের আন্তরিকতা এবং শিশুমনের চাহিদা বোঝার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

(৯) ‘উৎসাহে তাহার রাত্রে নিদ্রা হয় না’ – (ক) কার কথা বলা হয়েছে ? (খ) তার উৎসাহের কারণ কী ? (গ) শেষ পর্যন্ত তার কী অবস্থা হল ? ১+২+২

উত্তর –
(ক) কার কথা বলা হয়েছে? (১ নম্বর)
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ছুটি’ গল্পের আলোচ্য উদ্ধৃতাংশে ফটিক চক্রবর্তীর কথা বলা হয়েছে।


(খ) তার উৎসাহের কারণ কী? (২ নম্বর)

  • ফটিক ছিল গ্রামের ছেলে। গ্রামের বাইরে যাওয়ার সুযোগ তার আগে কখনও হয়নি। তাই মামার সঙ্গে কলকাতায় যাওয়ার কথা শুনে সে খুব আনন্দিত হয়েছিল।
  • তা ছাড়া মায়ের বকুনি, ভাই মাখনের প্রতি মায়ের পক্ষপাত এবং ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় তার মনে কলকাতায় যাওয়ার উৎসাহ আরও বেড়ে গিয়েছিল। এই আনন্দ ও উত্তেজনায় রাতে তার ঘুম আসেনি।

(গ) শেষ পর্যন্ত তার কী অবস্থা হল? (২ নম্বর)

  • মামাবাড়িতে গিয়ে ফটিক স্নেহ-ভালোবাসার পরিবর্তে অবহেলা, অপমান ও দুর্ব্যবহার পায়। মামি ও মামাতো ভাইদের কাছ থেকে যথাযথ ভালোবাসা না পেয়ে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।
  • শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফেরার আকাঙ্ক্ষায় সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মামাবাড়িতে ফিরিয়ে আনে। প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সে প্রলাপ বকতে থাকে। এভাবেই তার কলকাতায় যাওয়ার আনন্দের পরিণতি হয় গভীর দুঃখ ও মর্মান্তিক পরিণতিতে।

(১০) ‘তখন তাহার মানসিক উন্নতির প্রতি মামীর এতটা যত্নবাহুল্য তাহার অত্যন্ত নিষ্ঠুর অবিচার বলিয়া মনে হইত’ – উদ্ধৃতাংশটির মধ্যে দিয়ে মামীর চরিত্রের যে দিকগুলি আভাসিত হয়েছে, তা লেখো। ||[অথবা]

‘ছুটি’ গল্পে ফটিকের মামির চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর –
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ছুটি’ গল্পে ফটিকের মামি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তাঁর আচরণের মধ্য দিয়ে কয়েকটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে।


স্বার্থপরতা :
– ফটিকের মামি স্বার্থপর প্রকৃতির মহিলা। নিজের গোছানো সংসারে ফটিকের উপস্থিতি তিনি সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি। তাঁর কাছে ফটিক ছিল বাড়তি বোঝা।


হৃদয়হীনতা :
– মামি ফটিকের প্রতি স্নেহ ও সহানুভূতি দেখাননি। ফটিক তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করলেও তিনি তার কাজের প্রশংসা করতেন না। বরং তার উৎসাহ দমন করতেন। অসুস্থ ফটিকের প্রতিও তাঁর আচরণে যথেষ্ট মমতার অভাব দেখা যায়।
নির্দয়তা :
– ফটিক বই হারিয়ে ফেললে স্কুলে তাকে শিক্ষকের মার খেতে হয়। নতুন বইয়ের প্রয়োজন হলে মামি বারবার বই কিনে দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান। তাঁর এই আচরণে ফটিকের প্রতি নির্দয় মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

স্নেহের অভাব :
– ফটিক ছিল স্নেহ-ভালোবাসার কাঙাল। সে মামির কাছ থেকে সামান্য ভালোবাসা ও সহানুভূতি আশা করেছিল। কিন্তু মামি তাকে আপন করে নিতে পারেননি। ফলে ফটিক মামাবাড়িতে নিজেকে অবাঞ্ছিত মনে করত।


মানসিকতা বুঝতে অক্ষমতা :
– তেরো-চৌদ্দ বছরের কিশোরের মানসিক বিকাশের জন্য স্নেহ, উৎসাহ ও সহানুভূতি প্রয়োজন। কিন্তু মামি ফটিকের মনের কথা বুঝতে পারেননি। তার মানসিক উন্নতির নামে অতিরিক্ত শাসন ও অবহেলা ফটিকের কাছে নিষ্ঠুর অবিচার বলে মনে হয়েছিল।


উপসংহার :
– সর্বোপরি, ফটিকের মামির চরিত্রে স্বার্থপরতা, কঠোরতা, স্নেহের অভাব এবং শিশুমন বোঝার অক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর অবহেলা ফটিকের দুঃখকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। এই চরিত্রের মাধ্যমে লেখক বুঝিয়েছেন, শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য শিক্ষা ও শাসনের পাশাপাশি স্নেহ-ভালোবাসাও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

উপসংহার

‘ছুটি’ গল্পটি কিশোর মনের আকাঙ্ক্ষা, স্নেহের অভাব এবং পারিবারিক অবহেলার এক মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে ধরে। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ছুটি গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর অনুশীলনের পাশাপাশি ছুটি গল্পের বিষয়বস্তু এবং ছুটি গল্পের নামকরণের সার্থকতা ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুসারে ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর 2nd semester, ছুটি গল্পের ছোট প্রশ্ন উত্তর, ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর class 11 pdf এবং ছুটি গল্পের উৎস সম্পর্কেও জ্ঞান থাকা দরকার। অন্যদিকে, ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর mcq, ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর class 9, ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর 1st semester, ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর class 9 pdf, ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর class 11, একাদশ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় সেমিস্টার ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর, ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর class 9 mcq, ছুটি গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর class 9, Class 9 bengali ছুটি question answer, ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর cbse, খেয়া কবিতার প্রশ্ন উত্তর, পোস্টমাস্টার গল্পের প্রশ্ন উত্তর এবং ছুটি গল্প সম্পর্কিত অনুসন্ধানকারী পাঠকেরাও নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলা সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যেতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here